স্যর অ্যালেক্স ফার্গুসনের অবসরের পর থেকে একের পর এক খারাপ সময়ের সাক্ষী থেকেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে বুধবার রাতে ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক অধ্যায় রচিত হল ইএফএল কাপে। নাম না জানা, চতুর্থ ডিভিশনের ক্লাব গ্রিমসবি টাউনের কাছে হেরে গেল ২০ বারের ইংল্যান্ডের লিগ চ্যাম্পিয়নরা। গ্রিমসবি এমন এক ক্লাব, যাদের নিজস্ব স্টেডিয়াম পর্যন্ত নেই। সেই ক্লাবকেই হারাতে ব্যর্থ হল ইউরোপের অন্যতম সফল দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। স্বাভাবিক ভাবেই ম্যান ইউ দলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। এমনকী এই ম্যাচের শুরু থেকেই তারা ছিল ছন্দহীন, আত্মবিশ্বাসহীন।
ম্যাচের ১২ মিনিটেই গোল করে গ্রিমসবিকে এগিয়ে দেন চার্লস ভার্নাম। ইউনাইটেড গোলরক্ষক ওনানার বড় ভুলেই আসে এই গোল। এরপর কর্নার থেকে উড়ে আসা বল সঠিকভাবে পাঞ্চ করতে ব্যর্থ হন ওনানা। বল পড়ে যায় টাইরেল ওয়ারেনের সামনে, যিনি সহজেই বল জালে জড়িয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধেই ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধেও খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। ৭৫ মিনিটে এমবেউমোর গোল কিছুটা আশা জাগালেও, পূর্ণ প্রত্যাবর্তনে দেরি হয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে, ৮৯ মিনিটে হ্যারি ম্যাগুয়েরের গোলে সমতা ফেরায় ইউনাইটেড। খেলা গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
সেই পেনাল্টি শুটআউট পরিণত হয় এক ম্যারাথনে। উত্তেজনায় ঠাসা সেই মুহূর্তে ১২–১১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে গ্রিমসবি। বিজয়ের আনন্দে ভেসে যায় দর্শকরা, মাঠে নেমে আবেগে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা। ক্লাবের ইতিহাসে এটি এক মহাকাব্যিক জয়। অন্যদিকে, ইউনাইটেড শিবিরে শুধুই অন্ধকার। গত এক দশকে বহু কোচ বদলেছেন, বহু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফার্গুসনের সময়ের পর ক্লাবটির যে পতন শুরু হয়েছিল, বুধবার রাতে সেটি যেন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছল। এই হারের পর ক্লাবের ভিতর ও বাইরে সব জায়গাতেই উঠছে একটাই প্রশ্ন, এখনও কি ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আছে রেড ডেভিলসদের? এর উত্তর সময় বলবে।
2025-08-28T05:45:46Z