ভারতীয় ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের মাঝে অবশেষে মিলল আশার আলো। এআইএফএফ (সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন) এবং এফএসডিএল (ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড)-এর মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উঠে এসেছে একাধিক সিদ্ধান্ত। যা আগামী মরশুমে ভারতের ফুটবল সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বুধবার দুই পক্ষ বৈঠকে বসে, যেখানে জানানো হয়েছে, চলতি মরশুম শুরু হবে সুপার কাপ দিয়ে। যার সম্ভাব্য তারিখ সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহ। ভুবনেশ্বর এই টুর্নামেন্টের আয়োজক শহর হতে পারে। ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বে আইএসএল ক্লাবগুলোর সঙ্গে হওয়া বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, আইএসএল (ইন্ডিয়ান সুপার লিগ) শুরু হবে ডিসেম্বরের আগে নয়। এর পেছনে রয়েছে প্রশাসনিক ও আর্থিক কারণে তৈরি হওয়া জটিলতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ফেডারেশন ও এফএসডিএল আলোচনায় বসে, এবং তা থেকেই স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান চুক্তি শেষ হচ্ছে ৮ ডিসেম্বর। যদিও শোনা যাচ্ছে, এপ্রিল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানো হতে পারে, তবে তা নির্ভর করছে নির্বাচনের পর নতুন কমিটির সঙ্গে আলোচনার ওপর।
২২ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি পিএস নরসীমা এবং জয়মাল্য বাগচী জানিয়েছিলেন, আইএসএলের অচলাবস্থা কাটাতে দুই পক্ষ আলোচনায় বসতে পারবে। সেই মতোই এদিন আলোচনায় বসে ফেডারেশন এবং এফএসডিএল। তারপর দুই পক্ষের যৌথ প্রস্তাব জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টকে। আগামী মঙ্গলবার, অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর রায় জানাবে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, বর্তমান মাস্টার রাইটস চুক্তির শেষ কিস্তি (₹১২.৫ কোটি) ফেডারেশনকে এখনও পেতে হবে। এফএসডিএল জানিয়েছে, তারা স্বত্ব ছাড়তে রাজি, কিন্তু নতুন বাণিজ্যিক কাঠামোর জন্য স্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় আইএসএলের নামও বদলে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এই অবস্থায় যদিও সুপার কাপ আয়োজনে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তবে আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকায় একাধিক ক্লাব প্লেয়ার ও কোচিং স্টাফদের বেতন বন্ধ রেখেছে। অনেকে এখনও বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তিও করেনি। আইএসএল পিছিয়ে যাওয়ায় সুপার কাপ ও আইএসএলের মধ্যে অন্তত দুই মাসের বিরতি থাকবে। এই সময় কোনও বড় টুর্নামেন্ট না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—ফুটবলাররা কী করবেন এই ফাঁকা সময়ে?
2025-08-28T15:45:47Z