৯৭০ দিনে খেলেছেন মাত্র ৩ ওডিআই, সেই বোলারই ভারতকে জেতাবে বিশ্বকাপ? বাড়ছে চিন্তা!
বিগত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের মূল কান্ডারি জসপ্রীত বুমরাহ। তবে পিঠের মারাত্মক চোট সারিয়ে ফেরার পর থেকেও ফিটনেস নিয়ে তাঁর টানা লড়াই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ক্রিকেট বোর্ডে বুমরাহের ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ বা কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া সত্ত্বেও মাঠের চোট-আঘাত থেকে তাঁকে পুরোপুরি মুক্ত রাখা যাচ্ছে না। তাঁর অপ্রচলিত বোলিং অ্যাকশন এবং প্রাণঘাতী ইয়র্কার যেমন তাঁকে বিশ্বসেরা সাফল্য এনে দিয়েছে, তেমনই তাঁর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ আঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বুমরাহের দীর্ঘ অনুপস্থিতির চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকে ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ পর্যন্ত—এই দীর্ঘ ৯৭০ দিনে বুমরাহ ভারতের হয়ে মাত্র ৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। এই সময়ে ভারতীয় দল মোট ২৯টি ওয়ানডে খেললেও, চোট ও বিশ্রামের কারণে বুমরাহকে বাদ পড়তে হয়েছে ২৬টি ম্যাচে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এত কম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারবেন কি না। কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটেই নয়, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও বুমরাহের উপস্থিতি বেশ হতাশাজনক। ২০২৩ সালের পর থেকে ভারত মোট ২৭টি লাল বলের টেস্ট ম্যাচ খেললেও বুমরাহ মাঠে নামতে পেরেছেন ২২টিতে, অর্থাৎ বাদ পড়েছেন ৫টি টেস্টে। দীর্ঘতম ফরম্যাটে মূল পেসারের অনুপস্থিতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে দলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে বুমরাহকে সবচেয়ে বেশিবার বিশ্রামে পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে ভারত ৭৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললেও বুমরাহ মাত্র ৩৩টি ম্যাচে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অর্থাৎ, কাজের চাপ কমানো কিংবা শারীরিক সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অর্ধেকেরও বেশি ম্যাচ (৪৫টি) তিনি মিস করেছেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালীন আবার হাঁটুর চোটে পড়েন এই তারকা পেসার। শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট সিরিজে তাঁর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ফিটনেস পরীক্ষার ওপর নির্ভর করছিল। কিন্তু ফিটনেস টেস্ট উৎরে গেলেও শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি না নিয়ে বুমরাহকে শ্রীলঙ্কা টেস্টের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়তে হয়। স্কোয়াডে তাঁর জায়গায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের তরুণ পেসার আকিব নবিকে। ক্রমাগত চোট এবং বারবার দল থেকে ছিটকে যাওয়ার এই চক্র কেবল বুমরাহের কেরিয়ারকেই থমকে দিচ্ছে না, বরং বিসিসিআইয়ের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। ভারতের এই ‘ইয়র্কার কিং’ পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেয়ে কত দ্রুত সব ফরম্যাটে নিয়মিত হতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
2026-08-03T11:05:28Z
ফের বড় বিতর্কে বৈভব সূর্যবংশীর নাম! ১৫ বছরের তারকাকে নিয়ে বড় মন্তব্য কিংবদন্তী ক্রিকেটারের
ভারতের উদীয়মান তারকা বৈভব সূর্যবংশীর বয়স ফের একবার বিতর্কে। তিনি কি সত্যিই মাত্র ১৫ বছরের তরুণ, নাকি তাঁর বয়স কিছুটা বেশি—এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ব্রেট লি মনে করেন, জন্মতারিখ বা বয়স যাই হোক না কেন, বৈভব যে অসাধারণ এক প্রতিভাবান ক্রিকেটার এবং তিনি দীর্ঘ সময় ভারতের হয়ে সার্ভিস দিতে পারবেন, সেটিই সবচেয়ে বড় সত্য। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল ‘বিয়ার বাইসেপস’-এ কথা বলার সময় ব্রেট লি স্পষ্ট জানান যে, ভারতের বাইরে বিশ্বজুড়ে বৈভবের বয়স নিয়েই সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে। তবে এই অজি তারকার মতে, বয়স ১৫ হোক কিংবা ১৭-১৮, তাতে কিছু যায় আসে না। আসল বিষয় হলো, এই তরুণের মধ্যে ক্রিকেট খেলার চমৎকার নৈপুণ্য রয়েছে এবং ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য তিনি এক অবিশ্বাস্য আবিষ্কার। ভবিষ্যতে তিনি আরও অনেক বড় বড় সাফল্য অর্জন করবেন বলে বিশ্বাস ব্রেট লির। আইপিএল ২০২৬-এ বৈভব প্রমাণ করেছেন যে, প্রতিপক্ষের যেকোনো বড় নাম বা বোলারের সুনাম তাঁকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারে না। তাঁর ভয়ডরহীন মানসিকতা, চোখের পলকে মাঠের চারদিকে শট খেলার ক্ষমতা এবং দুর্দান্ত ব্যাট স্পিডের ওপর ভর করে তিনি একটি চমৎকার মরশুম উপহার দেন। বিশেষ করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ৯৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংসটি খেলে তিনি ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন, যেখানে অজি বোলারদের পেস সামলে তিনি একের পর এক হুক শট খেলেছিলেন। আইপিএলে এমন চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের সুবাদেই জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে দ্রুত সুযোগ পান বৈভব। আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কিছুটা শান্ত থাকলেও, পরবর্তী জিম্বাবোয়ে সফরেই তিনি দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। সেই সফরে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে, তরুণ বয়সেও যেকোনো ধাক্কা সামলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার মানসিক শক্তি তাঁর রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই প্রাক্তন স্পিড স্টার এত কম বয়সে বৈভবের খেলা ও সিদ্ধান্তের পরিপক্কতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশ্বের দ্রুতগতির বোলারদের বিরুদ্ধে ক্রিজে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নির্ভীকতা সত্যিই নজরকাড়া। প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে তিনি কখনোই পিছপা হন না, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেকোনো ব্যাটারের জন্য এক বিরাট সম্পদ। তবে এত দ্রুত অর্জিত সাফল্য ও জনপ্রিয়তা সামলানোকে বৈভবের জন্য বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন ব্রেট লি। তাঁর মতে, বৈভবের মূল চ্যালেঞ্জ এখন খেলার মাঠের বাইরের বিপুল লাইমলাইট, গণমাধ্যমের নজর এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশার চাপ সঠিকভাবে সামলে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা চালিয়ে যাওয়া। এটি ধরে রাখতে পারলে বৈভব ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে অনেক দূর নিয়ে যাবেন।
2026-08-09T09:05:30Z